পরিচিতি
শাহজাহান চৌধুরী
তাঁর দীর্ঘ ও বহু-মাত্রিক রাজনৈতিক জীবনে একজন অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান, বলিষ্ঠ সংগঠক এবং জনদরদি নেতা।
দক্ষ পার্লামেন্টারিয়ান ও সাংবিধানিক ভূমিকাঃ
দুইবার (১৯৯১ ও ২০০১ সালে) চট্টগ্রাম-১৪ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি জাতীয় সংসদের কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। বিশেষ করে, তিনি জাতীয় সংসদের প্যানেল স্পিকার এবং পার্লামেন্টারি গ্রুপের হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সংসদীয় রীতিনীতি, শৃঙ্খলা ও আলোচনার মান বজায় রাখতে দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।
শিক্ষা ও জনকল্যাণে অবদানঃ
সংসদ সদস্য থাকাকালীন তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকায় শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ নজর দিয়েছেন। তিনি সাতকানিয়া আদর্শ মহিলা কলেজের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনসহ সড়ক যোগাযোগ, ধর্মীয় ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তৃণমূল মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ তাঁর জনসেবার প্রতি অঙ্গীকার প্রমাণ করে।
সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য এবং চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাবেক আমির হিসেবে তিনি দলীয় নীতি ও আদর্শকে তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে দিতে সাংগঠনিক তৎপরতা দেখিয়েছেন। কর্মীদের উজ্জীবিত ও ঐক্যবদ্ধ রাখতে এবং শৃঙ্খলামূলক রাজনৈতিক চর্চায় ভূমিকা রেখেছেন।
ইনসাফ ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রামঃ
তিনি দেশে ইনসাফ, মানবাধিকার এবং ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সোচ্চার ছিলেন। ফ্যাসিবাদ, জুলুম এবং ইনসাফহীনতার বিরুদ্ধে সর্বদা কথা বলেছেন এবং একটি কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন।
পৃথিবীতে কিছু লোকের জন্মই যেন হয়েছে মানুষের কল্যাণসাধনে, মানবতার সেবায় নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দিতে। যারা আজীবন সংগ্রাম ও সাধনা করেন এ লক্ষ্যে যে কীভাবে জনগণের সেবা করা যায়। যারা মানবতার কল্যাণে নিজের মেধা ও মননকে উজাড় করার মধ্যেই জীবনের সার্থকতা খুঁজে পান। ‘মানুষ মানুষের জন্য’ এ স্লোগানই তাদের কর্মতৎপরতা ও অনুপ্রেরণার উৎস। এমনই একজন মানবদরদি ব্যক্তি জনাব শাহজাহান চৌধুরী (সাবেক এম.পি.)। যিনি মানবতার মুক্তির জন্য নিজের জীবন ওয়াকফ করে আজীবন সংগ্রামে লিপ্ত রয়েছেন। কায়েমি স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর রক্তচক্ষু এবং জালিম ও স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর সীমাহীন জুলুম-নির্যাতন উপেক্ষা করে বিরামহীনভাবে এগিয়ে চলেছেন লক্ষ্যপানে। স্বৈরাচারের বুলেট, টিয়ারগ্যাস, লাঠিচার্জ ও বারবার কারাগারে নিক্ষেপ কোনোকিছুই তার বিরামহীন সংগ্রামকে থামাতে পারেনি। যিনি নিজের ক্যারিয়ার, ব্যাবসা-বাণিজ্য ও পরিবার-পরিজন সবকিছুকে দ্বীন কায়েমের সংগ্রাম ও মানবতার সার্বিক কল্যাণসাধনে কুরবানি দিতে কুণ্ঠাবোধ করেননি। সকল বাধা ও প্রতিবন্ধকতাকে মাড়িয়ে অবিরাম সংগ্রামে নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন। সংক্ষেপে তার সংগ্রামী জীবনের খণ্ডচিত্র তুলে ধরা হলো।
প্রাথমিক জীবন ও পারিবারিক পরিচিতিঃ
জনাব শাহজাহান চৌধুরী ১৯৫৬ সালের ৬ এপ্রিল সাতকানিয়ার ছমদর পাড়ায় একটি ঐতিহ্যবাহী সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম ওবায়দুর রহমান চৌধুরী ও মাতা মরহুমা ছমুদা বেগম। তাঁর দাদা ছিলেন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী মরহুম হামিদ আলী চৌধুরী। ছয় ভাইবোনের মধ্যে জনাব শাহজাহান চৌধুরী সবার বড়ো। ছোটো ভাই শাহ আলম চৌধুরী আমেরিকায় সরকারি চাকুরিতে কর্মরত আছেন। অপর দুই ভাই জনাব আব্দুল আউয়াল চৌধুরী টুকু মিঞা ও জনাব আহমদ কবির চৌধুরী আমেরিকায় ব্যাবসা করেন। আরেক ভাই জনাব মুহাম্মদ হোছেন চৌধুরী সাতকানিয়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন।
জনাব শাহজাহান চৌধুরী ১৯৮২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্দর থানাধীন হালিশহর এলাকার অধিবাসী সোনালী ব্যাংকের সাবেক ডি.জি.এম. জনাব আব্দুল কাইয়ুম সাহেবের মেয়ে জহুরা বেগমের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সংসার জীবনে তাঁদের তিন মেয়ে রয়েছে। বড়ো মেয়ে একটি স্বনামধন্য ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষিকা বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত। মেজো মেয়ে সপরিবারে কানাডায় বসবাসরত। ছোটো মেয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। তিন মেয়েই বিবাহিত।
শিক্ষা ও কর্মজীবনঃ
জনাব শাহজাহান চৌধুরী ছমদর পাড়া ফোরকানিয়া মাদরাসায় মরহুম মাওলানা আব্দুর রশীদ ও মাওলানা আলী আহমদ সাহেবের নিকট প্রাথমিক লেখাপড়া ও কুরআন শিক্ষা গ্রহণ করেন। সাতকানিয়া ছমদর পাড়া প্রাইমারি স্কুলে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর সাতকানিয়া মডেল হাইস্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন। সেখান থেকে এসএসসি পাশ করার পর চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা ইন কমার্স এবং চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ থেকে বি.কম পাশ করেন। পরবর্তী সময়ে এল.এল.বি. ডিগ্রি অর্জন করেন।
পেশাগত জীবনে তিনি ১৯৭৯ সাল থেকে ব্যাবসা শুরু করেন। তিনি স্বনামধন্য ব্যাবসাপ্রতিষ্ঠান হামিদ এন্ড সন্স-এর স্বত্বাধিকারী এবং প্রাইম সল্ট ইন্ডাস্ট্রিজ ও ইলোমিন্যাট গ্রুপ-এর চেয়ারম্যান।
ছাত্র রাজনীতিতে অগ্রণী ভূমিকা
একজন সমাজসচেতন ব্যক্তি হিসেবে জনাব চৌধুরী স্কুলজীবন থেকেই ছাত্র আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত হন এবং আদর্শবাদী ছাত্র রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন। তিনি তৎকালীন ইসলামী ছাত্র সংঘের ‘রফিক’ ছিলেন। পরবর্তীকালে ইসলামী ছাত্রশিবির প্রতিষ্ঠার পর তিনি ছাত্রশিবিরের সদস্যপদ লাভ করেন। ক্রমান্বয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর পরামর্শ সভার সদস্য এবং কোতোয়ালী থানা সভাপতি ও জোন পরিচালক হিসেবে ছাত্রশিবিরের অগ্রযাত্রায় বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন।
ছাত্র সমস্যা সমাধানে নেতৃত্বদান
একটি আদর্শবাদী ছাত্র সংগঠনের প্রথম সারির নেতা হিসেবে জনাব চৌধুরী ছাত্রসমাজের বহুমুখী সমস্যা সমাধানে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
বাংলাদেশ বাণ্যিজ্যিক ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ১৯৭৬ থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত ২ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭৬ সালে তৎকালীন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট পৃথক করার দাবিতে সারা দেশে ডিপ্লোমা ছাত্রদের সংগঠিত করে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলেন। তাঁর আন্দোলনের ফসল হিসেবে পরবর্তী সময়ে নিজস্ব জমি ও ভবনে কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট পৃথক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।
তিনি বি.বি.এ. কোর্স চালুর জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দাবি উত্থাপন করেন এবং তাঁর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বি.বি.এ. কোর্স চালু করে।
শিশু-কিশোর সংগঠক শাহজাহান চৌধুরী
জনাব শাহজাহান চৌধুরী শৈশব থেকেই ছিলেন শিশুদের মতো সরল ও মিশুক স্বভাবের। তিনি শিশু-কিশোরদের সাথে দরদি মন নিয়ে মিশতে পারেন। তারুণ্যের প্রাক্কালে তিনি একজন দক্ষ শিশু-কিশোর সংগঠক হিসেবে সুনাম অর্জন করেন। কিশোর বয়সেই শাহজাহান চৌধুরী এ অঞ্চলের সুপরিচিত শিশু সংগঠন ‘ঝিঙে ফুলের আসর’ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অর্থ সম্পাদক হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন প্রধান পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বৃহত্তর চট্টগ্রামে ‘ঝিঙে ফুলের আসর’ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তাঁর দক্ষ পরিচালনা ও সুযোগ্য নেতৃত্বে ‘ঝিঙে ফুলের আসর’ জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিশু সংগঠনের মর্যাদা লাভ করে।
* ১৯৭৮ সালে সরকারিভাবে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শিশু-কিশোর মেলা আয়োজনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এবং ১৯৭৬, ১৯৭৭ ও ১৯৭৮ সালে মেলা আয়োজনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
* ১৯৭৬, ১৯৭৭ ও ১৯৭৮ সালে চট্টগ্রাম কৃষিশিল্প মেলা আয়োজনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন।
* ১৯৭৬, ১৯৭৭ ও ১৯৭৮ সালে সরকারিভাবে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাস্তবায়নে ‘ঝিঙে ফুলের আসর’-এর প্রতিনিধি হিসেবে সহকারী ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করেন।
* ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের চট্টগ্রাম আগমন উপলক্ষে শিশু-কিশোরদের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রধান হিসেবে ভূমিকা পালন করেন।
* শিশু-কিশোর পত্রিকা ‘ঝিঙে পাতা’ প্রকাশনায় প্রধান ভূমিকা পালন করেন।
* ১৯৭৫-৭৮ সালে চট্টগ্রাম ‘নজরুল-ফররুখ স্মরণ দিবস’ পালন, শিশু সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করেন।
* ১৯৭৮ সালে কবি আল মাহমুদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করেন।
* ১৯৭৮ সালে সরকারিভাবে শিশু-কিশোর সমাবেশ আয়োজনে প্রধান ভূমিকা পালন করেন।
বৃহত্তর ইসলামী আন্দোলন ও রাজনীতির ময়দানে ভূমিকা পালন
* ১৯৭৯ সালে ছাত্রজীবন শেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। ১৯৮১ সালে জামায়াতের রুকন (সদস্য) হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ১৯৮২-৮৬ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র কোতোয়ালী থানার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
* ১৯৮৭-৮৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সেক্রেটারি এবং ১৯৮৯ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত জেলা আমীরের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০-২০০৬ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম মহানগরী নায়েবে আমীরের দায়িত্ব পালন করেন।
* ২০০১ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, চট্টগ্রাম মহানগরী শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
* ১৯৮৯ সাল থেকে অদ্যাবধি কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য হিসেবে কেন্দ্রীয় সংগঠনের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
* ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
* ২০২৪ সাল থেকে অদ্যাবধি কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য হিসেবে কেন্দ্রীয় সংগঠনের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে ভূমিকা পালন
জনাব শাহজাহান চৌধুরী ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসন থেকে বিপুল ভোটে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই এলাকার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচনী এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন, বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে অগ্রণী ভূমিকা পালন ও অসামান্য অবদান রাখেন। তার কিয়দংশ উল্লেখ করা হলো :
* ২০০১-২০০৬ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী সংসদীয় দলের হুইপ, সংসদীয় হাউজ কমিটির সদস্য ও অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সদস্য এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
* জাতীয় শিল্প উন্নয়ন পরিষদ সদস্য এবং সংসদীয় ইঞ্জিনিয়ারিং সাব কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারা পরিদর্শক হিসেবে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
* ২০০৪-২০০৫ সালে পরপর ২ বার জাতীয় সংসদের প্যানেল স্পিকার মনোনীত হন।
* ১৯৯১-২০০১ সাল পর্যন্ত পার্লামেন্ট ক্লাবের সদস্য হিসেবে দায়িত্বপালন করেন।
* ২০০৪ সালে চট্টগ্রামে ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতা কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
* ২০০৩ সালে চট্টগ্রামে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উন্নয়ন এবং হৃদরোগ ওয়ার্ড সম্প্রসারণের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।
* ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে পরিত্যক্ত সম্পত্তি সাব করেন। চট্টগ্রাম মহানগরীর ঝাউতলা, ফিরোজশাহ, শেরশাহ কলোনিসহ অন্যান্য স্থানে কাগজপত্রের আলোকে বৈধ মালিকদের নামে প্লট বরাদ্দের ব্যবস্থা করেন।
*১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্জন্ত গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। সরকারি পরিত্যক্ত সম্পত্তি বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সদস্য হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগরীর ঝাউতলা, ফিরোজশাহ, েেশরশাহ কলোনিসহ অন্যান্য স্থানে কাগজপত্রের আলোকে বৈধ মালিকদের নামে প্লট বরাদ্দের ব্যবস্থা করেন।
* চট্টগ্রাম বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করার জন্য তৎকালীন মন্ত্রী জহির উদ্দিন খানের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে দায়িত্বপালন করেন।
* দক্ষিণ চট্টগ্রামের কর্ণফুলী, আনোয়ারা, বাঁশখালী, পটিয়া, বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার সমন্বয়ে পৃথক একটি জেলা প্রতিষ্ঠা করার জন্য দীর্ঘদিন থেকে দাবি ও সংগ্রাম চালিয়ে আসছেন।
* বাঁশখালী, চকরিয়া ও লোহাগাড়ার পশ্চিমাংশে পাহাড়ে কুমিরাঘোনা এলাকায় রাশিয়ান গ্যাস কোম্পানি কর্তৃক পাকিস্তান আমলে খননকৃত পরিত্যক্ত গ্যাসকূপ পুনর্খনন করে গ্যাস উত্তোলনের জন্য হোটেল সোনারগাঁওয়ে সেমিনারের আয়োজন ও তৎকালীন খনিজ সম্পদ মন্ত্রীসহ বিদেশি ডেলিগেট নিয়ে উক্ত স্থানসমূহ পরিদর্শনের ব্যবস্থা করেন।
* দোহাজারী থেকে টেকনাফ ভায়া কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত রেললাইন সম্প্রসারণের দাবি তিনি বারবার জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেছেন।
* চট্টগ্রামে আরও একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৯৩ সালে জাতীয় সংসদে দাবি উত্থাপন করেন এবং ২০০৩ সালে চট্টগ্রাম জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় জনাব শাহজাহান চৌধুরীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী ডিয়ো লেটার তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে দাখিল করেন।
* পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য তৎকালীন ‘শান্তি বাহিনী’র সাথে আলোচনার জন্য সরকার গঠিত ৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ তৎপরতার অংশ হিসেবে ১৯৯৪ সালে ভারতে আশ্রিত উপজাতি শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করে উপজাতিদের উদ্দেশে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় বক্তব্য প্রদান করে শরণার্থীদের দেশে ফিরে আসার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করেন। তাঁর এ প্রচেষ্টায় তখন হাজার হাজার শরণার্থী বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করে।
* সংসদ সদস্য থাকাকালে আইনের সংশোধনীর ক্ষেত্রে পোস্টমর্টেম (ময়নাতদন্ত) সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপন ও পাশের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
আন্দোলন-সংগ্রাম ও কারাবরণ
দীর্ঘ ৯ বছরব্যাপী স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জনাব শাহজাহান চৌধুরী চট্টগ্রাম মহানগরীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামে জনমত গঠনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে চট্টগ্রামে এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত সৃষ্টি হয়। যার ফলে এরশাদের দীর্ঘ ৯ বছরের স্বৈরশাসনের পতন তরান্বিত হয়। মিছিল, সমাবেশ, হরতাল ও অবরোধে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিনি বারবার পুলিশি নির্যাতন ও নির্দয় আচরণের শিকার হন। সে সময় তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকার তাঁকে ১৩টি মিথ্যা মামলার আসামি করে।
* ২০০০ সালে পবিত্র ঈদুল আযহার দিন আওয়ামী লীগ সরকার তাঁকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ১ মাস রেখে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করে অমানবিক নির্যাতন চালায়। মাননীয় হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি লাভের পর সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তাঁকে কারাগারের গেইট থেকে পুনরায় গ্রেফতার করে। এই অন্যায় গ্রেফতারের প্রতিবাদ করায় শত শত নেতাকর্মীকেও গ্রেফতার করা হয়।
* ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারির নির্বাচনে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসন থেকে তিনি সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হন। দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর জরুরি সরকার তাঁর জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দায়ের করে। ষড়যন্ত্রমূলক মামলার আইনি মোকাবিলার জন্য আদালতে উপস্থিত হলে তাঁকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে দীর্ঘ ১৪ মাস কারাগারে আটক রাখে।
* জরুরি সরকারের সাথে আঁতাঁত করে ক্ষমতায় আসা অবৈধ আওয়ামী লীগ সরকার ২০১১ সালে হাইকোর্ট চত্বর থেকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে তাঁকে গ্রেফতার করে মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারে আটক রাখে। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে তিনি ২০১২ সালে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন।
* ২০১৮ সালে কোটাবিরোধী আন্দোলনের প্রারম্ভে চট্টগ্রাম শহরে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার চট্টগ্রামের আন্দোলন দমানোর জন্য আগস্ট মাসের ৩ তারিখে চট্টগ্রাম শহরের খুলশী থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে। সেই সময় দীর্ঘ ৮ মাস তিনি কারাবন্দি ছিলেন।
* ২০২১ সালে সারা দেশে ভারতবিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়লে পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন সাতকানিয়ার নিজ বাসভবন থেকে ১৪ মে রাতে গ্রেফতার হন। টানা ৩৪ মাস বন্দিজীবনের পর ২০২৪ সালে ১৭ জানুয়ারি তিনি কারামুক্তি লাভ করেন।
* দীর্ঘ ১৬ বছরব্যাপী স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার সময়ে ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে জনাব শাহজাহান চৌধুরী চট্টগ্রাম মহানগরীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামে জনমত গঠনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত সৃষ্টি হয়। আওয়ামীলীগ সরকার জনাব শাহজাহান চৌধুরীকে ১৬ বছরে সর্বমোট ৯৬টি মামলা দায়ের করে। ৩০ দিনের বেশি রিমান্ডে রেখে নির্যাতন করে। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি তাঁর মাকে হারিয়েছেন। ২০১৩ সালে জনাব শাহজাহান চৌধুরীকে গ্রেফতার করতে গিয়ে তাঁকে না পেয়ে আওয়ামী পুলিশ বাহিনী তাঁর ভাগিনা মাঈনুদ্দিন হাসান চৌধুরী মুন্নাকে হত্যা করে। আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে তিনি ৯ বছরের কাছাকাছি কারাগারে ছিলেন। একজন সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে উনার নাগারিক অধিকার হরণ করে উনাকে ডিভিশন না দিয়ে দীর্ঘ ১৯ মাস কনডেম সেলে রাখে।
* ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার তুমুল গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের পতন হয় এবং স্বৈরাচার হাসিনা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এই আন্দোলন চলাকালে জনাব শাহজাহান চৌধুরী চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আমীর এবং চট্টগ্রামের শীর্ষ রাজনীতিবিদ হিসেবে জোরালো ভূমিকা রাখেন। ছাত্রজনতার আন্দোলনে তিনি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সমর্থন-সহযোগিতা দিয়ে চট্টগ্রামের আন্দোলনকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যান।
দুদকের মামলায় বেকসুর খালাস
সাতকানিয়া-লোহাগাড়া থেকে বারবার বিপুল ভোটে নির্বাচিত জনাব শাহজাহান চৌধুরীর বিজয়কে কোনোভাবে ঠেকানো যাবে না দেখে ১/১১-এর জরুরি সরকার দুদকের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। সেই ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় বিশেষ আদালতের মাধ্যমে ৭ বছরের সাজা প্রদান করে। এ সাজার বিরুদ্ধে জনাব চৌধুরী হাইকোর্টে আপিল দায়ের করলে দুদক তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হওয়ায় হাইকোর্ট তাঁকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার খালাসের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল দায়ের করে। আপিল বিভাগে দীর্ঘ শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতি এস.কে. সিনহার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ তাঁকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন এবং তাঁর জব্দকৃত গাড়িটি ক্ষতিপূরণসহ ফেরত প্রদানের নির্দেশ দেন। এ নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি গাড়িটি ফেরত পান।
সমাজসেবা ও মানবকল্যাণে অবদান
একজন নিরলস সমাজকর্মী হিসেবে জনাব শাহজাহান চৌধুরী অসংখ্য সেবা, পুনর্বাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার সাথে সম্পৃক্ত আছেন। সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় নারী ও শিশুশিক্ষা বিস্তারে তিনি বিশেষ মনোযোগী হন। এ লক্ষ্যে তিনি মহিলা মাদরাসা ও এবতেদায়ী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে সক্রিয় সহযোগিতা ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ফাযিল ও কামিলকে ডিগ্রি ও মাস্টার্সের মান দেওয়ার ক্ষেত্রে মাদ্রাসা ছাত্র আন্দোলন পরিষদ নেতাদের নিয়ে সংসদ সদস্যদের নিকট স্মারকলিপি বিতরণ করেন। এবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষকদের প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকদের সমমর্যাদা দানের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদানে নেতৃত্ব দেন। এ ব্যাপারে শিক্ষকদের আন্দোলন ও অন্যান্য কর্মসূচি পালনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। তিনি নিজে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন এবং পরিচালনার সাথে যুক্ত ছিলেন ও আছেন।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো :
প্রতিষ্ঠাতা : মোজাদ্দেদ আল্ ফেসানী একাডেমী, সাতকানিয়া। সাতকানিয়া আদর্শ মহিলা কলেজ, সাতকানিয়া। দক্ষিণ ছমদর পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাতকানিয়া। ছমদিয়া এতিমখানা, সাতকানিয়া। ছমদিয়া হেফজখানা, সাতকানিয়া। গৌড়স্থান উচ্চ বিদ্যালয়, লোহাগাড়া। বড়হাতিয়া আয়েশা সিদ্দিকা মহিলা মাদরাসা, লোহাগাড়া। সাউন্ড হেলথ হাসপাতাল, লোহাগাড়া। কেরানীহাট আশ্ শেফা হাসপাতাল, সাতকানিয়া। ইলোমিনেট স্কুল এন্ড কলেজ, ডবলমুরিং, চট্টগ্রাম।
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য : আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম।
সভাপতি : রব্বানী মহিলা মাদরাসা, সাতকানিয়া। ইসলামিক সেন্টার, সাতকানিয়া।
চেয়ারম্যান : ডা. ইসমাঈল স্মৃতি ফাউন্ডেশন। সময় ফাউন্ডেশন।
সেক্রেটারি : মুসল্লী পরিষদ, শাহী জামে মসজিদ, আন্দরকিল্লা।
সদস্য : তানজিমুল মোসলেমীন এতিমখানা, চট্টগ্রাম।
ব্যবস্থাপক ও পরিচালক : সাপ্তাহিক সময়ের প্রয়াস পত্রিকা।
নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন
১৯৯১ ও ২০০১ সালে এমপি থাকা অবস্থায় নির্বাচনী এলাকা সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় তিনি ব্যাপক উন্নয়ন করেন। বিশেষ করে ২০০১ সালে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় থাকাকালীন নির্বাচনী এলাকাকে আধুনিক সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় রূপান্তর করেন। শিক্ষা, যোগাযোগ, সমাজকল্যাণ, দারিদ্র্য বিমোচন ও বেকারত্ব দূরীকরণে এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। ২০০২ সালে বড়হাতিয়া হাঁটখোলা মুড়া এলাকায় বাঁধ নির্মাণ, ২০০৪ সালে গৌড়স্থানে নিজস্ব উদ্যোগে বাঁধ নির্মাণ এবং সুখছড়ি কামার দিঘির পাড় এলাকায় রাবারড্যাম নির্মাণের মাধ্যমে কৃষি সম্প্রসারণে বিরাট ভূমিকা পালন করেন। গরিব-দুঃস্থ গৃহহীনদের জন্য লোহাগাড়ায় ৩টি ও সাতকানিয়া ৩টি গুচ্ছগ্রাম প্রতিষ্ঠা করেন। সাতকানিয়া সরকারি কলেজে অনার্স কোর্স চালু, সাতকানিয়া ফায়ার ব্রিগেড স্থাপন, বিপুলসংখ্যক স্কুল, কলেজ ও মাদরাসা এমপিওভুক্তকরণ তাঁর অবিরাম প্রচেষ্টার ফসল। শত শত ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ, রাস্তা পাকাকরণ ও সংস্কারের মাধ্যমে পুরো এলাকায় অভূতপূর্ব যোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন করেন। টিআর, কাবিখা, ঐচ্ছিক তহবিল ও বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে তিনশত মসজিদ, মাদরাসা, স্কুল ও কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধন করেন। দুই উপজেলার অসংখ্য মন্দির, মঠ ও উপাসনালয় সংস্কারে অসামান্য অবদান রেখেছেন। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এ দুটি উপজেলা মডেল উপজেলায় রূপান্তরিত হয়। লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ট্রমা সেন্টার স্থাপন তাঁর আরেকটি উল্লেখযোগ্য অবদান। ২০০১ সালের মেয়াদে সাতকানিয়াকে পৌরসভায় উন্নীত ও লোহাগাড়াকে আরবান এলাকায় রূপান্তরিত করেন।
আর্তমানবতার সেবায়
* ১৯৮৮ সালে দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক সংকটের আশঙ্কা দেখা দিলে সম্প্রীতি রক্ষার জন্য শাহজাহান চৌধুরী সাতকানিয়া-লোহাগাড়ায় বিভিন্ন ইউনিয়নে জনসভা করেন। মুসলিম ছাত্র-যুবকদের স্বেচ্ছাসেবক কমিটি গঠন করে প্রত্যেক মন্দিরে পাহারার ব্যবস্থা করেন।
* ১৯৮৮ সালে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত উরিরচরে মরহুম আব্বাস আলী খানের নেতৃত্বে খাদ্য, ত্রাণ ও ঔষধ সামগ্রীসহ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উরিরচরে ছুটে যান।
* ১৯৯১ সালে ভয়ানক ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত উপকূলীয় অঞ্চল বাঁশখালী, আনোয়ারা ও পতেঙ্গায় ব্যাপক রিলিফ বিতরণ ও শত শত লাশ দাফনে নেতৃত্ব দেন জনাব শাহজাহান চৌধুরী।
* ১৯৭৯ সালে বর্মী সরকারের অমানবিক নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা মুসলমানদের মাঝে রাবেতা আলম ইসলামীর সহায়তায় ত্রাণ বিতরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন জনাব চৌধুরী।
* রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিপর্যস্ত শরণার্থীদের চিকিৎসাসেবা ও রাবেতা হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
* ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পরে সারাদেশ-সহ বৃহত্তর চট্টগ্রাম যখন একটি টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, সেই সময়ে বৃহত্তর চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বী ও তাদের উপাসনালয়ের নিরাপত্তার ব্যাপারে জনাব চৌধুরী চৌকশ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করেন। চট্টগ্রামের পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক রাখতে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সাথে সমন্বয় সাধন ও সহযোগিতা করেন।
* ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রামের মেয়রসহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টার সাথে দফায় দফায় আলোচনা করে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
বিদেশ সফর
জনাব শাহজাহান চৌধুরী সরকারি প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে শ্রীলংকা, ভারত, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব সফর করেন। কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন সম্মেলনে যোগদানের লক্ষ্যে নাইজেরিয়া, ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন সম্মেলনে যোগদানের লক্ষ্যে কেনিয়া এবং ট্যুরিজম কনফারেন্সে যোগদানের লক্ষ্যে মালয়েশিয়া সফর করেন।
Our Team

